প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও খামারিদের সচেতনতা বাড়াতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিন ও প্রাথমিক চিকিৎসা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় এএলআরডি–মিজেরিয়া ‘ইচ্ছে প্রকল্প’-এর আওতায় কমিউনিটি সিবিএ, জন সমবায় গ্রুপ ও চর ক্লাস্টারের উদ্যোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় খামারিদের দেশি মুরগির খামার গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। খামার ব্যবস্থাপনা, উপযুক্ত স্থান নির্বাচন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, রোগ প্রতিরোধ, সুষম খাদ্য প্রদান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও ধারণা দেওয়া হয়।
কর্মশালায় বিএলআই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এলএসপি পারভীন বেগম হাঁস-মুরগির বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন প্রয়োগ পদ্ধতি, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেন। তিনি বলেন, “নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মুরগির মৃত্যুহার কমিয়ে খামারের উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর সাইফুল ইসলাম ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি সরকারি প্রাণিসম্পদ বিভাগের বিনামূল্যে সেবা গ্রহণ, নিয়মিত টিকাদান এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খামার ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জানা যায়, স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা স্পিড ট্রাস্টের বাস্তবায়নে এবং এএলআরডি–মিজেরিয়া প্রকল্পের সহযোগিতায় চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ৯টি জনসমবায় গ্রুপের ১৮০ জন সদস্য, নাজিরপুর এলাকার ৩টি ভূমিহীন গ্রুপ এবং বাউফল সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস ও গোসিঙ্গা গ্রামের ৩টি গ্রুপ নিয়ে ভূমি অধিকার, জলবায়ু সহনশীল কৃষিচর্চা ও জীবিকাভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো পরিবেশবান্ধব কৃষি ও প্রাণিসম্পদ চর্চার প্রসার, নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংযোগ নিশ্চিত করা। এরই অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র খামারিদের স্বাবলম্বী করে তুলতে এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।
জেএস